আন্তর্জাতিক ডেস্ক : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে একটি মন্দিরের কাছে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসির খবরে মৃতের সংখ্যা জানানো হয়েছে ১৬। তবে আল জাজিরা অনলাইন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ সংখ্যা কমপক্ষে ২৭ বলে জানিয়েছে। আতহ হয়েছে কমপক্ষে ৭৮ জন।
এখনও পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।
বিবিসির ব্যাংকক কার্যালয়ের প্রধান জোনাথন ঘটনাস্থল থেকে জানান, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনই মন্দিরটির আশপাশে প্রচুর লোকসমাগম থাকে। বিস্ফোরণের সময় লোকজনকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আরও একটি অবিস্ফোরিত বোম নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। পুলিশের ধারণা এটি একটি মোটরসাইকেল বোমা।
স্থানটি ছিল দেশটির বড় পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। সরকারের দাবি, পর্যটন শিল্পের ক্ষতির জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন চীনাসহ তিনজন বিদেশি পর্যটক রয়েছে বলে একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রায়ুত উংসুউং বলেছেন, এটি ছিল টিএনটি বোমা। হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল বিদেশি পর্যটক। দেশটির পর্যটনশিল্প ও অর্থনীতির ক্ষতিসাধনই ছিল তাদের লক্ষ্য।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রাইউথ চ্যান ওচা বলেছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘রণসজ্জার’ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির ব্যাংকক সংবাদদাতা জানান, একটি পাঁচ তারকা হোটেলর পাশে অবস্থিত ইরাবান মন্দিরটি খুবই পরিচিত। এর চারপাশে সব সময় ব্যাপক লোকসমাগম থাকে। মন্দিরটি হিন্দু দেবতা ব্রহ্মার হলেও এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার বৌদ্ধ প্রার্থনার জন্য আসেন।
দেশটির ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তা লে. জেনালেন প্রাউত থাবর্নশ্রী নিউজ এজেন্সি এএফপিকে জানান, ‘আমি নিশ্চিত এটা বোমা। কিন্তু আমরা বলতে পারছি না তা কী ধরনের। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বিস্ফোরণের এলাকাটি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিক্ষোভের বড় কেন্দ্রস্থল ছিল। পর্যটকদের জন্য এ এলাকাটি ছিল খুবই জনপ্রিয়।
থাইল্যান্ডে মুসলমি বিদ্রোহীদের তৎপরতা থাকলেও বোমা হামলার ঘটনা এ দেশে খুবই বিরল।
তথ্যসূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা অনলাইন।